4

জা লি রি পবা ৯০ শ্যামাচর

--আঠারে। টাকা প্রথম প্রকাশ, আশ্বিন ১৩৭ দ্বিতীয় মুদ্রণ, পৌঁধ ১৩৭৭ তৃতীয় মুদ্রণ, বৈশাখ ১৩৭১

চতুর্থ মুদ্রণ, মাঘ ১৩৭১ পঞ্চম মুদ্রণ, শ্রাবণ ১৩৭২

ষ্ঠ মুদ্রণ, কাতিক ১৩৭৪ সপ্তম মুদ্রণ, বৈশাখ ১৩৮০

[141-704977-4170-94 1414

(11886 10875 ০1 0108 611085 : 98009) 73191 (8181, [911 10159 1417019/7) 17091 10991199800)

4 10056] 0 7311708,1 11119. 1211099738৭ 18/-

এই গ্রন্থের বচলাকাল * নভেম্বর ১৯৬২- আগস্ট ১৯৬৩

প্রচ্ছদপট £ অঙ্কন-_শ্রীঅজিত গুধু মুদ্রণ_ন্তাশনাল হাফটোন কোং

মিত্র ঘোষ প্রাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, ১* শ্যামাচরণ দে ড্র, কলিকাতা ১২ হইতে এস. এন, রায় কর্তৃক প্রকাশিত গ্রীসারদ| প্রেদ, ৬৫ কেশবচন্ত্র সেন স্ট্রীট, কলিকাতা * হইতে

পি. কে, পাল কর্তৃক মুদ্রিত

মণ

র্‌ সংসারশ্যাত্রা"নির্বাছের সমস্ত দায়িত্ব থেকে আমাকে মুক্তি দিয়ে তুমি চিরদিন আমার সহযোগিতা করেছ বলেই 'সাছ্ব-বিবি-গোলাম, “কড়ি দিয়ে কিনলাম আর “একক দশক শতক' রচন! আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। তাই আমার ইচ্ছে এই প্রচেষ্টার নঙ্গে তোমার নাম যুক্ত থাকুক

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি

আমার 'পাঠক-পাঠিকাবর্গের মতর্কতার জন্যে জানাই যে মম্প্রতি অসংখ্য উপন্যাস “বিমল মিত্র' নামযুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। পাঠক-মহলে আমার জনপ্রিয়তার ফলেই এই দূর্ঘটনা মণ্তব হয়েছে। ও-নামে কোনও দ্বিতীয় লেখক নেই। গাঠক-পাঠিকা- বর্গের প্রতি আমার বিনীত নিবেদন এই ষে সেগুলি মন্পূ্ণ জাল বই। একমাত্র “কড়ি দিয়ে কিনলাম? ছাড়া আমার লেখ! প্রত্যেকটি গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় আমার স্বাক্ষর মুদ্রিত আছে।

4

[105 055 11] ০0209 1190 (19 900 আ1]] 510136 01215 07001 ৪. স0110 [19 11091) "110 180050189 00 [08.8681 62:0910% 168,501) দম1)01) (5:81068 800. 81:98, [19805 800 61617 ৪9010 ০: 157১0011109] 6001৪ জা11 10 10108693086 930872% 10 1718601 0 0. 009 ৪68৪9. --111970018 09 001100709$, 1743---1794

বিমল মিত্রের এ-যাবৎ লেখা বইয়ের সম্পূর্ণ তালিকা

এর পাম লংলার

শেষ পৃষ্ঠায় দেখুন

চার চোখের খেলা

নাহেব বিবি গোলাম সাহেব বিবি গোলাম ( নাটক ) নফর সংকীর্তন

একক দশক শতক (নাটক ) কড়ি দিয়ে কিনলাম

বেগম মেরী বিশ্বাস

শেষ্ট গল্প

সখী সমাচার

সাহিত্য বিচিত্র

মিথুন লঙ্ম

ফুল ফুটুক

হেনরির গল্প ( অন্বাদ ) ইয়ালিং ( অন্থবাদ )

মন কেমন করে

অন্যরূপ

নিশিপালন

কন্যাপক্ষ

সরম্বতীয়া

বরনারী (জাবালি)

চলো কলকাতা

বেনারপী

কুমারী ব্রত

আমি

পতি পরম গুরু

রাগ ভৈরব

লঙ্জাহরণ

কলকাতা থেকে বলছি আসামী হাজির গল্পসভভার

গুলমোহর

রাণী সাহেবা

কথ! চরিত মানস কাহিনী সপ্তক

এক রাজ। ছয় রানী প্রথম পুরুষ

ৃত্যুহীন প্রাণ

টক ঝাল মিষ্টি

পুতুল দিদি

মনে রইলো

হাতে রইল তিন দিনের পর দিন

শনি রাজা বাহু মন্ত্রী তোমর] দু'জন মিলে তিন ছয় নয়

নিবেদন ইতি

রং বদলায়

স্থয়োরানী

নবাবী আমল

নটনী

বিনিন্ধ

কেউ নায়ক কেউ নায়িকা যে যেমন

চাদের দাম এক পয়সা ছু চোখের বালাই

নিব্দেনমিদং

১৯৩৮ সালের আগস্ট মাস। সবে ইউনিভামিটির বেড়া ভিড্তিয়েছি। আমার কর্মজীবনের সেই শুভ স্ুত্রপাতের জঙ্গে-সঙ্গে অতি সংগোপনে একটি কঠিন ব্রত আমি গ্রহণ করে বসলাম। ব্রতটি ছিল এই যে-যে-দেশে আমি জন্মেছি, একটি বিশেষ যুগ থেকে শুরু করে জীবনের একটি বিশেষ তারিখ পর্বস্ত ধারাবাহিক এঁতিহাদিক পটভূমিকায় খণ্ডে খণ্ডে সেই দেশের একটি উপন্তাস লিখে যাবো সেদিন কলম ছিল অপটু, কিন্তু যৌবনের আতিশয্যে সাহস ছিল দুর্জয় সেই নাহসের ওপর তব করেই একদিন “সাহেব বিবি গোলাম” লিখতে শ্বরু করি। আমার গোপন পরিকল্পনার সেটি প্রথম খণ্ড সে- উপন্তা শেষ হয় ১৯৫৩ সালে। দেশের জনসাধারণ সে-উপন্যাস পড়ে অকুণ্ঠ অভিনন্দন জানিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতা-সত্রে আবদ্ধ করলেন, কিন্তু সাহিত্য-সমাজ আমার শিরে অভিসম্পাত বর্ষণ করলেন। সমসাময়িক পত্র-পত্রিকার ফাইলে সে- অভিসম্পাতের কিছু নজীর এখনও বিদ্যমান গবেষকরা তার সন্ধান নিশ্চয়ই বাখেন।

কিন্তু তার ফলে আমি হৃতম্থাস্থ্য হলেও হতোছ্যম ষে হুই নি তার প্রমাণ 'কড়ি দিয়ে কিনলাম'__-ভারতীয় ভাষায় সর্ববৃহত্ই শুধু নয়, সর্বজনসমাদূত উপন্যাস। সৌভাগ্যক্রমে সে-উপন্তাস পড়ে পাঠক-সাধারণ আমাকে আগের মতই আশাতীত সমাদরে অভিনন্দন জানালেন এবং সাহিত্য-সমাজ যথারীতি আমার ওপর অভিপম্পাত বর্ষণ করে তাদের হ্বরূপ উদ্ঘাটন করলেন। সে-নজীরও ভবিস্তৎ গবেষকদের অগোচর থাকবার কথা নয়।

কিন্তু ততদিনে আমি সাহিত্য-সমাজের এই ছুজেয় মনোবৃত্তির পুর্ণ পরিচয় পেয়ে গিয়েছি, তাই অবিচলিত নিষ্ঠায় আবার শুরু করলাম আমার পরিকল্পিত উপন্যাসের তৃতীয় খণ্ড। সে-উপন্তান আজ এতদিনে শেষ হলো-_-এই 'একক দশক শতক'। আমি অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে পারি এ-গ্রন্থের ললাটেও সেই একই লিপি ক্ষোর্দিত আছে। তাই আমার জীবদ্দশাতেই ঘে আমি আমার ব্রত সমাপ্ত করতে পেরেছি, আমার কাছে আনন্দের মূল্য অসীম

১৬৯০ সালের ২৪শে আগন্ট থেকে ১৯১১ সাল পর্বপ্ত 'সাছেব বিবি গোলাম” এর পটভূমিক1 অর্থাৎ, কলকাতার পত্তন থেকে শুরু করে ভারতবর্ষের রাজধানী কলকাতা৷ থেকে দিল্লীতে স্থানাস্তর-কাল পর্ধস্ত।

এব পর ১৯১২ সালে *কড়ি দিয়ে কিনলাম”-এর নায়কের জন্ম। সেই ১৯১২

সাল থেকে শুর করে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পর্যস্ত “কড়ি দিয়ে কিনলাম'-এর পটভূমিকা। অর্থাৎ, দুইটি মহাযুদ্ধের মধ্যবর্তীকাল।

এবার 'একক দশক শতক ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে শুরু কবে ১৯৬২ সালের ২*শে অক্টোবরে চীনা আক্রমণ পর্ধস্ত এর পরিধি

এই প্রায় পৌনে তিনশ! বছর কালকে আমার উপন্যাসে বিধৃত করে রাখতে আমার জীবনের পচিশটি বছর ষে কোথা দিয়ে অতিবাহিত হলে! সে বিষয়ে সচেতন হবার অবসর পাই নি এতদিন। আমার প্রয়াস সার্থক হয়েছে কি হয়নি তার বিচারক আমি নই হয়ত বর্তমান কালও তার বিচারক নয়, সে বিচার ভবিহ্যকালের | আমি শুধু কারক, কর্তা অবাঙমনসোগোচর

রবীন্দ্রনাথ তার “আত্মপরিচয়” গ্রন্থে লিখেছেন-_“অবশেষে একদিন খ্যাতি এসে অনাবৃত মধ্যাহবোত্রে টেনে বের করলে। তাপ ক্রমেই বেড়ে উঠল, আমার কোণের আশ্রয় একেবারে ভেঙে গেল। খ্যাতির সঙ্গে সঙ্গে যেগ্লানি এসে পড়ল আমার ভাগ্যে, অন্যদের চেয়ে তা অনেক বেশি আবিল হয়ে উঠল এমন অনবরত, এমন অকুষ্ঠিত, এমন অকরুণ, এমন অপ্রতিহত অপন্মাননা, আমার মত আর কোন সাহিত্যিককেই সইতে হয় নি। এও আমার খ্যাতি-পরিমাপের বৃহৎ মাপকাঠি ।” ব্লাই বাছল্য আমি রবীন্দ্রনাথ তে! নই-ই, এমন কি আজ বাংলা সাহিত্যে ধারা প্রাতংস্মরণীয় তাদের কারোর সমকক্ষও নই তবু সাহিত্য-সমাজের ধিক্কার কুৎসা বিদূষণ থেকে আমি মুক্ত থাকতে পারবো ছুরাশাই বা কেমন করে করি?

আঁর একটা কথা আলেকজান্রিয়ার কবি 0878720801719 বলেছেন 4. ১1৪ ১০০]: 15 & 18 ৪11. _সৌভাগ্যক্রমে বা! দুর্ভাগ্যক্রমেই হোক, আমার উপন্যাস দীর্ঘই হয়েছে স্থতরাং আমিও সেই একই অপরাধে অপরাধী কিন্ত সেই বৃহৎ পুস্তক লিখেও যে আমি পাঠকের ধৈর্ধের দীমা অতিক্রম করি নি তার প্রমাণ আমার কাছে আছে আমি আমার পাঠক-সাধারণের কাছে সে-জন্তে কুৃতজ্ঞতা-পাশে আবদ্ধ হয়ে আছি।

এর পরে এই উপন্তাস-ত্রয়ীর একটি ভূমিকা (7১7:91909 ) লেখবার বানা আছে। সে-বইটির নাম দেব 'বেগম মেরী বিশ্বাস।” অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ইংরেজদের আগমনের পর ইসলাম, খুষ্টান এবং হিন্দুসং্কৃতির সম্বয্-সাধনের দংগ্রামই হবে এক বিষয়-বস্ত |

আজ আমার আরব ব্রত-সমাণ্তি উপলক্ষে এই কয়টি কথ! নিবেদন করেই এই ভূমিকায় পূর্ণচ্ছেদ টানলাম। ইতি-- বিনীত

বিমল মিত্র

মুখপত্র

রাজ্য-পরিক্রমার পর রাজধানীতে ফিরছেন রাজ! রোহিত লামনে বুদ্ধ ব্রাহ্মণ পথ আটকে দীড়ালেন।

-্কে?

--আমি রাজা রোহিত।

ব্রা্ষণ বললেন--ঘরে ফিরছে! কেন?

রাজ! রোহিত বললেন_ আমি এবার ক্লাস্ত_.

্রাহ্মণ বললেন--চলতে চলতে যে ক্লান্ত সে-ই তো অন্ত-্রী! যিনি সততা- কাম তিনিও যদি নিশ্চল হয়ে বসে থাকেন, তারও পতন অনিবার্ধ। রা, তুমি চলে! চলো, এগিয়ে চলো, চরৈবেতি-_চরৈবেতি-_

রাজার আর গৃহে ফেরা হলো না। তিনি আবার বেরিয়ে পড়লেন পরি- ক্রযায়। কিন্তু একদিন আবার ফিরে এলেন রাজধানীতে। আবারু সেই ব্রাহ্মণ পথ আটকে দীড়ালেন।

বরে ফিরছে! কেন?

রাজ! রোহিত আবার বললেন__-এ-রকম ক্রমাগত চলে চলে লাভ কী?

ব্রাহ্মণ বললেন--মে কী? যে চলতে পারে সে-ই তো সুস্থ। সুস্থ মানুষই তে৷ নুস্থ মনের অধিকারী আত্মার বিকাশ হয় তার। একি চরম লাভ নয়? তুমি চলো চলো, এগিয়ে চলো-_চরৈবেতি--চরৈবেতি-_

এবারও ঘরে ফের হলো নারাজার। আবার বেরিয়ে পড়লেন তিনি। কিন্ত আবার একদিন ফিরলেন রোহিত। আবার ব্রাহ্মণ দাড়িয়ে আছেন-_

আবার কেন ফিরলে?

-আমি আর পারছি না যে

্রান্ণ বললেন--সে কি? যে বিশ্রাম করে তার ভাগ্যও যে বিশ্রাম করে। ষে উঠে দীড়ায় তার ভাগ্যও যে উঠে দীড়ায়, যে শুয়ে পড়ে তার ভাগাও ষে ধরাশায়ী হয়, যে এগিয়ে চলে তার ভাগ্যও যে এগিয়ে চলে--তুমি এগিয়ে চলো থেমো। না-_চরৈবেতি--চরৈবেতি--

| একক দশক শতক

কাজেই আবার ফিরতে হলে! রাজা রোছিতকে ১০০০ স্বরে ফিরছেন, পথে আবার সেই ব্রাহ্মণ

--আন্ন আমি ঘুরতে পারছি না৷ ব্রাহ্ষণ। টি রাত রানার পারবো না। আমায় আপনি ক্ষমা করুন। সত্যযুগে উপদেশ হয়তো! চলতো, ঘুগে অচল-_

ব্রাহ্মণ হাসলেন বললেন-_না, শুয়ে থাকাই হলে! কলিযুগ, জেগে ওঠাই স্বাপর, উঠে দীড়ানোই ত্রেতা, আর চলাই হলো! সত্যযুগ স্থৃতরাং তুমি এগিয়ে চলো রাজা রোহিত, আরো এগিয়ে চলো, চরৈবেতি--চবৈবেতি-_ থেমো না.

আর ফের! হলো না। আবার চলতে আরম্ভ করলেন রাজা রোহিত। হিমালয় থেকে কন্যাকুমারিকা, সিদু থেকে পূর্ব-সীমাস্ত। কাশী কোশল অযোধ্যা মিথিলা কলিঙ্গ দ্রাবিড় ভারতবর্ষের সমস্ত ভূ-খণ্ডে আবার শুরু হলো তার পরি- ক্রমা। তারপর শুরু হলে বহির্তারত আর তারপর বিশ্ব-ব্রদ্ষাগড।

এমনি করে কালপ্রবাহ এগিয়ে চললো অবশেষে যুগযুগাস্তর পরে এল ১৯৪৭ সাল। সে রাজা রোহিতও নেই, সেই ব্রাহ্মণ নেই। আদেশ করবার লোকও নেই, উপদেশ শোনবারও কেউ নেই। উপদেশ উপদেষ্টা সব তখন একাকার হয়ে গেছে।

উপন্তাস সেখান থেকেই শুরু করলাম।

উপাখ্যান

প্রথমে যখন এ-পাড়ায় বাড়িটা তৈরি হচ্ছিল তখনও কেউ জানতো! না। জমি কেনা কৰে হলো, কবে দলিল রেজিস্রী করা হলো, তার খবরও কেউ রাখতো না। এ-পাড়ার লোক মাধারণত এসব খবর নিয়ে মাথ! ঘামায় না। যে যার বাড়িতে নিজের নিজের কোটবে থাকে। এই জমিতেই একদিন রাজমিন্ত্রী মজুর দিনের পর দিন খেটে এ-বাড়ি তুলেছিল। তখন মাঝে মাঝে একটা বিরাট গাড়ি এসে দড়াতো। সঙ্গে থাকতেন একজন মহিলা! ধার বাড়ি তিনি এসে দেখে যেতেন বাড়ি কতদূর উঠলো। তীর স্ত্রীও দেখতেন সেই তখন থেকেই লোকে জানতে পারলো এ-বাড়ি শিবগ্রসা্ন গণ্রের। কলকাতার নামজাদা লোক, প্রখ্যাত দেশতক্ত। এককালের পোলিটিক্যাল সাফারার শিবপ্রসাদ গুপ্তের নাম শুনলে কারো৷ চিনতে বাকি থাকার কথা নয়।

বড়লোকদের নাম হয়ে গেলে স্থবিধেও যেমন থাকে, আবার অস্থবিধেও তেমনি অনেক।

শিবপ্রসাদ গুধু যখন প্রথম এ-বাড়িতে এসেছিলেন তখন পাড়ার লোকেরা অনেকেই অযাচিতভাবে এসে দেখ! করে গিয়েছিলেন। সেই যে তাদের আনা- গোনা আরস্ত হয়েছিল, তার পর থেকে তা আর থেমে যায় নি।

লোকে বলত-_বড়লোক হলে কী হবে, মেজাজটা শিবের মত-_

শিবের মেজাজ আমলে কী রকম কে জানে। কিন্তু শিবকে ঠাণ্ডা মেজাজের দেবতা মনে করে নিলে উপমাটা লাগসই করার পক্ষে সুবিধে হতো আর তা ছাড়! শিবের চেহারার সঙ্গেও মিল ছিল শিবপ্রসাদবাবুর।

শিবগ্রসাদবাবু বলতেন-_ন! না, কী যে বলেন আপনারা, দিনকাল যে-রফম পড়েছে আজকাল তাতে মেজাজ ঠাণ্ড রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।

আরো বলতেন- মেজাজ গরম করলে কি আর পাবলিকের সঙ্গে কারবার করা চলে বন্ধুবাবু-_

একা বন্ধুবাবুই শুধু নয়, পাড়ার কয়েকজন রিটায়ার্ড বৃদ্ধ সন্ধ্যেবেল! মাথা- গলা-কান ঢাক! দিয়ে এসে বদতেন। খবরের কাগজ নিয়ে আলোচন। হতো,

১২. একক দশক শতক

কংগ্রেস, কমিউনিস্ট নিয়ে আলোচনা! হতো, প্রত্যেকের একটা করে বলবার মত বিষয় ছিল, সেটা তাদের অতীত জীবন। বর্তমান আর ভবিষৎ নিয়ে আলোচনার চেয়ে অতীতটা নিয়েই বেশি মাথ| ঘামাতেন সবাই। সেই অতীত জীবনের কথাই সকলের মনে পড়তো কী-সব দিন-কাল ছিল মশাই [ কোথায় গেল সেই সোনার দেশ ! তখন লেখাপড়ার কদর ছিল, দেব-দ্বিজে ভক্তি ছিল। আর এখন সব উল্টে গেছে। মেয়েরা অফিসে ঢুকেছে চাকরি নিয়ে রাস্তায় পার্কে একা-একাই সব বেড়াচ্ছে পুরুষ মানুষকে ভ্রক্ষেপই নেই।

প্রত্যেক দিনই এই আলোচনা হয়। কিন্তু মীমাংসায় পৌঁছোবার আগেই বছিনাথ এসে ঘরে ঢোকে

বছ্চিনাথ এসে বলে- পুজোর জায়গ! হয়েছে আপনার-_

বগ্চিনাথ -ওই সময়ে ঘরে ঢোকা মানেই শিব্প্রসাদবাবুর পুজোর জায়গা হওয়া এটা সবারই জানা হয়ে গিয়েছে। প্রথমে একটু অবাক লেগেছিল। মানে একেবারে প্রথম-প্রথম

শিবপ্রসাদবাবু হাসতে হাসতে বলেছিলেন-_ওই ভগ্ডামিটুকু আর ছাড়তে পারছি না কিনা

বঙ্কুবাবু বলেছিলেন__তা ভগ্ডামি বলছেন কেন? পুজো করা কি ভগ্ামি মশাই ? এখনও যে ইও্ডয়া পৃথিবীর মধ্যে এত এগিয়ে আছে কিসের জন্টে বলুন? ওই সব আছে বলেই তো এখনও দুনিয়াটা চলছে। চন্দ্র সূর্য নড়ছে। নইলে দেখতেন কবে ইগ্ডিয়! কমিউনিস্ট ব্লকে জয়েন করে ফেলতো-__

শিবপ্রসাদবাবু হো হো করে উচ্চ হাসি হাসতেন। একেবারে প্রাণখোলা হাসি।

বলতেন--অতশত জানি না মশাই, পুজো করে মনে তৃপ্তি পাই তাই করি। ছোটবেলার অভ্যেসটা আর ছাড়তে পারি নি-_

কথাটা শুনে চমকে যাবার মতই সবাই জিজ্ঞেস করে--আপনি কি ছোট- বেল! থেকেই পুজো করে আসছেন নাকি?

শিবপ্রসাদবাবু বলেন---তা দ্শ-বারো! বছর বয়েস থেকেই করে আসছি তো, ম! বলেছিলেন করতে, তাই করি। এখনও মার কথাগুলো সবই মেনে চলতে চেষ্ট]! করি-_ওই দেখুন না আমার মায়ের ছবি'**

বলে মায়ের-উদ্দেশে দুই হাত জোড় করে প্রণাম করলেন।

একট1 সোনালী ফ্রেমে ধাধানো মায়ের ছবিটা টাঙানো ছিল দেয়ালের

একক দশক শতক ১৩

গায়ে। বিরাট অয়েলপেন্টিং। সার! দেয়ালখান| জুড়ে ওই একখানা ছবিই ঝুলছে সবাই সেই দিক চেয়ে দেখলে

শিবপ্রসাদবাবু বলতে লাগলেন-_মায়ের মনের কোনো! মাধই পূর্ণ করতে পারি নি তাই এখন ছুঃখ হয়। আমি মায়ের অযোগ্য ছেলে মশাই, আমার মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি জীবনে__

বলতে বলতে গলাট! যেন বুজে আসে শিবপ্রসার্দবাবুর |

প্রতিবেশীরা তখন আর দাড়ান না। বলেন__না না, আপনি আহ্ুন, আপনার দেরি করে দেবে! না আর-_.

রাত ন'টা থেকে সাড়ে নস্টা পর্যন্ত শিবগপ্রসাদবাবুর পুজো! করবার সময় | সে-সময় কারে। গোলমাল করার নিয়ম নেই। শ্তধু তাই নয়, সকাল থেকে রাত পর্ধস্ত এ-বাড়ির ভেতরে কোথায় ষেন একটা প্রশান্তির প্রলেপ মাখানে। সজীবতা লেগে থাকে এখানে সবাই প্রসন্ন এ-যুগে এক অদ্ভুত ব্যতিক্রম কোথাও কোনও অভিযোগ লুকিয়ে, থাকে তো তা কারে! কানে যায় না। আনন্দ যেন উপচে পড়ছে প্রত্যেকটি মানুষের মনে সবাই ঘুম থেকে উঠে বলে বাঃ! আবার রাত্রে শুতে যাবার আগেও যেন সবাই নিশ্চিন্ত হয়ে বলে-_বাঃ! যে এ-যুগে কেমন করে সম্ভব হলে! সেইটেই এ-পাড়ার লোকের কাছে একটা সমস্যা কেউ কেউ ভাবে হয়ত টাকাই এর প্রধান কারণ অপর্যাপ্ত টাক! থাকলে হয়ত এমনি শান্তির সংসার গড়ে ওঠা সম্ভব। কিন্তু টাকা কি কেবল কলকাতা শহরে শুধু শিবপ্রসাদবাবুর একলারই আছে? আর কারো নেই? বঝঙ্কুবাবুরই কি টাকা নেই? অবিনাশবাবুরই কি টাকার অভাব? অনাথবাবুর তিনটি ছেলেই দিক্পাল__তিনজনই গেজেটেভ, অফিসার, কত টাকার ছড়াছড়ি চারিদিকে এ-পাড়ার বড়-বড় বাড়ির মালিক সবাই বাইরে €থকে ফ্লোরেসেণ্ট লাইট, রেফ্রিজারেটার, রেডিওগ্রাম, সবই তো নজরে পড়ে নজরে যাতে পড়ে তার সব রকম ব্যবস্থাই তো মজুত। কিন্তু সবাই এখানে, এই শিবপ্রসাদবাবুর বাড়িতে এলে যেন খানিকটা মুক্ত-বাযু সেৰন করে যায়। এখানে এসে শিব্রসাদবাবুর সঙ্গে কথা বললেও যেন পরমাযু বৃদ্ধি হয় সকলের। কিন্তু কেন এমন হয় কেউ বুঝতে পারে না।

9৪8 একক দশক শতক

সকালবেল! অফিসে যাবার সময় মন্দা এসে ফ্াড়ায়। শিবপ্রসাদবাবুর হাতের জিনিস গুছিয়ে দেবার জন্যে নয়। সে কাজের আলাদা লোক আছে বগ্ভিনাথের কাজই ওই। বদ্ঠিনাথের চাকরিটাই ওই জন্তে

শিবপ্রাদবাবু মন্দার দিকে চেয়ে বলেন-_জানো, বদ্িনাথ আজকাল গানের চর্চা করছে, কালোয়াত হবে-_

বছিনাথ আশ্চর্য হয়ে একটু জড়োসড়ে। হয়ে পড়লে!

-_কী রে, কালোয়াত হবি বুঝি? ওস্তাদ রেখেছিম? কত মাইনে নেয়?

মন্দাও অবাক হয়ে গেছে বললে--বলছেো কী তুমি? আবার গান গাইবে, তবেই হয়েছে-_

আরে না, তুমি জানো না, ভোরবেলা আমি যে শুনলুম নিজের কানে। শীতে কন্কন্‌ করছে, আর শুনি খুব গান হচ্ছে প্রথমে বুঝতে পারি নি, আমি ভাবলুম বুঝি সদাব্রত গান গাইছে, শেষে বুঝতে পারলুম, এমন গলা তো৷ বদ্িনাথের না হয়ে যায় নাঁ_

মন্দ বললে থাক থাক, তোমার অফিসের আবার দেরি হয়ে যাবে ওই সব বাজে কথা নিয়ে-_

-আরে বাজে কথা নয়, ওকেই জিজ্জেস করে৷ না, কোন্‌ গানটা গাইছিলি রে? বল্‌্না? ভালবেসে কেন সে কাদায়'--তার পর কীরে?

মন্দা আর থাকতে পরলে না। বললে-_-তোমার দেখছি কোনও কাগুজ্ঞান নেই, তোমার দেখছি মুখে কিছু বাধে না"..

বাঃ, ওর ভালবাসতে বাধলো না আর আমার মুখ ফুটে বলতেই বাঁধবে?

মন্দা বললে-__তুই যা তো বছিনাথ, ঘা যা, ঘর থেকে যাঁ_

বছ্িনাথ বোধ হয় ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে বাচলো|

কিন্তু শিবপ্রসাদবাবু হাসতে লাগলেন

ব্ললেন--অনেক দিন তো দেশে যায় নি, বউয়ের জন্যে মন কেমন করছে আর কি। ওকে ছুটি দেওয়া যাক, কী বলো?

-বাঃ রে, ওকে ছুটি দিলে তোমার কী করে চলবে? ওকে ছেড়ে থাকতে পারবে তুমি? বহ্ভিনাথ ছাড়া তে! তোমার একদণ্ড চলে না__

-_কেন, তুমি করতে পারবে না ওর কাজগুলো ?

--আমার বয়ে গেছে করতে !

একক দশক শতক ১৫

বলে মন্দা একটু মুখ ভার করার ভান করলে।

শিবপ্রসাদবাবু বললেন-_ কিন্ত আগে তো তুমি আমার সব কাজই করতে !

শআগে করতুম করতুম, এখন তুমিই কি আগের মতন আছো ?

_-কেন, আমি আবার কবে বদলে গেলুম !

--ব্দলে যাও নি? আগে তোমার এত ঘোরাঘুরি ছিল, না৷ এতবড় বাড়ি ছিল? ন! এত টাকাই ছিল?

--তা এত টাক! কি আমি ইচ্ছে করে করেছি? তুমি তো জানো টাকার লোভ আমার কোন দিন ছিল না, টাকা বাড়ি গাড়ি রেফ্রিজারেটার রেডিওগ্রাম কিছুই আমি চাই নি, সমস্ত আপনিই এসে গেছে--বলতে গেলে তোমার ভাগ্যেই এসেছে-_

মন্দা একটু রাগ দেখালোৌ। বললে-_-যাও যাও, তোমার দেরি হয়ে যাচ্ছে

শিবগ্রসাদবাবু হাসতে লাগলেন পাঞ্জাবি পর] হয়ে গিয়েছিল। জিনিস- পত্রও সব গুছিয়ে দিয়েছে বছ্যিনাথ। শিব্রসাদ ঘর থেকে বেরোবার আগে জিজ্জঞে করলেন- কুঞ্জ গাঁড়ি বার করেছে নাকি?

বছ্িনাথ বাইরেই দাঁড়িয়েছিল হুকুমের অপেক্ষায় সেখান থেকেই বললে _-হ্যা, বার করেছে

গাড়ির কথাতেই বোধ হয় মন্দার মনে পড়লে! কথাটা পেছন থেকে বললে-__তুমি নাকি খোকাকে গাড়ি কিনে দেবে বলেছ?

শিবপ্রসাদবাবু ফিরলেন বললেন- হ্যা, বলেছিলুম তো, খোক বলছিল নাকি?

-ওর গাড়িটা পুরোনে। হয়ে গেছে তাই বলছিল, আমার ভয় করে, কবে না আ্যাক্সিভেন্ট করে বসে আবার-_

শিব্প্রসাদবাবু বললেন-_-তা৷ বলছে যখন, দাও না। আর আমি নিজে তো ওর বয়েসে গাড়ি চড়তে পাই নি-_

__তা বলে এখন থেকেই শৌখিন হয়ে যাওয়া কি ভালো! ?

-_গাড়ি থাকা কি শৌখিন হওয়া? নইলে কলেজে বাসে ট্রামে গেলে আযাক্সিডেপ্ট হবার তো আরো! বেশি চান্স, সেদিন আমার অফিসেরই একটা ক্লার্ক তো৷ বাসের চাকার তলায় চাপা পড়ে মারা গেল--. |

কথাটায় বাধা পড়লে! হঠাৎ টেলিফোন এসে গিয়েছিল। আওয়াজ

একক দশক শতক

শুনেই 'বঞ্চিনাথ গিয়ে ধরলো। টেলিফোনট! শিবপ্রসাদবাবু নিজে ধরেন না ' কখনও

মন্দা ততক্ষণ নিজের কাজগুলো গোছাতে ব্যস্ত। দিনের মধ্যে যতক্ষণ সকালবেলা বাড়ি থাকেন শিবপ্রসার্মবাবু ততক্ষণই টেলিফোন। হাজার- হাজার প্রতিষ্ঠান আর হাজারটা মানুষের সঙ্গে সাতদিন সম্পর্ক রাখতে হয়। এই যে এখন অফিসে যাচ্ছেন, তারপর ফিরবেন সেই সন্ধ্যে সাতট! আটটায়। ষেদিন কোথাও মীটিং থাকে সেদিন আরো রাত হয়। আর মিটিংও কি একটা নাকি! সেই মীর্টিং থেকে ফিরতেই এক-একদিন রাত দশটা-এগারোট] বেজে যায়। পাড়ার বঙ্কুবাবু অনাথবাবুরা এসে কর্তাকে না পেয়ে ফিরে যান। অত রাত্রে ফিরে এসেও তখন পুজো করতে বসেন শিবপ্রসা্দ। পুজোটা নিয়মিত কর! চাই, তার পর খাওয়া-_

শিবপ্রসাদবাবু ফোনট! রেখে দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন।

মন্দা জিজ্ে করলে__আজকেও আবান্ব মীটিং নাকি ভোমার ?

শিবপ্রনাদবাবু বললেন-__আরে না, মহা মুশকিলে ফেলেছে আমাকে ওরা__

কার]?

_-আবার কারা? ওই পি-এস-পি'র দল। আমাকে নিয়ে টানাটানি বলছে আমাদের ক্যাণ্ডিডেট হয়ে আপনি ইলেকশানে দীড়ান__-আমি যত বলছি, বাবা, আমি কোনও দল্পেই নই, ছোটবেলা থেকে নিঃস্বার্থ ভাবে দেশের কাজ করেছি, এখনও করছি, যতদিন বেঁচে থাকবো! ততদ্দিন করবো তা দেশের উপকার করতে তো বাজী আছি, কিন্ত তোমাদের দল-টলের মধ্যে আমি নেই-_-তা কিছুতেই শুনবে না, কেবল আমাকে দলে টানতে চাইছে-_হয় ডাক্তার প্রচ্ুল্প ঘোষের দলে জয়েন করতে হবে, নয় তো অতুল্য ঘোষের, মাঝা- মাঝি থাকা চলবে না

মন্দ৷ অত কথা বুঝতে পারে না। ব্ললে__তা৷ তুমি মীটিং-এ যাচ্ছো নাকি? কী বললে তুমি?

শিবপ্রসাদ্দবাবু বললেন__আমি যা সকলকে বলি তাই-ই বললুম। বললুম থে মাকে জিজ্ঞেস না! করে তো৷ আমি কিছছু করি না_মাকে জিজ্ঞেস করবো! "দেখি মা কী বলেন-__

বলে আর দাড়ালেন না! বাৰ্রান্না দিয়ে নীচে একতলাত্ব দিকে চলতে লাগলেন। বষ্িনাথও পেছন-পেছন চলতে লাগলো! কাগজপত্রের পৌটলা

'এফক দশক শতক

হাতে নিয়ে। ওটা শিবপ্রসাদবাবুর সক্ষে গাড়িতে রোজ যায়, আবার রোজ ফিরে আসে বছ্িনাথও সঙ্গে সঙ্ষে যায়। আবার বাবুর সঙ্ষেই সে ফিরে আলে রাজ্রে। নেতাজী হৃভাষ রোডের দোতলার একটা ফ্ল্যাটে শিব্প্রলাদ- বাবুর অফিস। 'ল্যাণ্ড ডেভেলপমেন্ট সিপ্ডিকেট, শিবপ্রসাদবাবুত্র ক্লার্ক আছে, টাইপিন্ট আছে, ড্যাফট্স্ম্যান আছে। ঘর-ভরতি লোক। কলকাতা যখন ডোবা-পুকুর ছিল তখনকার কথা আলাদ!। একে একে বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে লোকসংখ্যা! বেড়েছে পার্টিশানেত্র : পর মানুষ গিজ-গিজ করছে শহরে সেই সময় থেকেই মাথায় বুদ্ধিটা খেলেছিল শিবপ্রমাদবাবুর তখনই এই অফিসটা করেন। তিনি বুঝতে পারেন এ-কলকাতা আগামী পাঁচ-দশ বছরের মধ্যে আর এ-রকম থাকবে না। আরো বড় হবে। ডালপাল! ছড়িয়ে পশ্চিমে চন্দননগর চুঁচড়ে ব্যাণ্ডেল পধন্ত গিয়ে ঠেকবে। দক্ষিণে যাদবপুর গড়িয়া ছাড়িয়ে ডায়মণ্ডহারবারে গিয়ে ছোবে। আর উত্তরে ব্রানগর দমদম ছাড়িয়ে কোথায় গিয়ে পৌঁছোবে তার ঠিক নেই। তার পর ডি-ভি-সি হয়েছে, ছুর্গাপুর হয়েছে, কল্যাণী হয়েছে। ষাদবপুর+ গড়িয়া, নরেন্দ্রপুর সবই ত্ৰার গ্ল্যানমতই হয়েছে। শিবপ্রসাদবাবু নিজের দৃরদুষ্টির জন্যে বেশ আত্মপ্রসাদ অন্থতব করেন। যেন তীরই কলকাতা এই গ্রেটার ক্যালকাট! যেন তাঁর নিজের হাতেরই গড়া টাক যা এসেছে তা এসেছে। তার সঙ্গে আর একট! দামী জিনিস যা এসেছে তা হলো তার আত্মতৃপ্তি। এই আত্মতৃপ্তিই গুপ্ত পরিবারের সব চেয়ে বড় প্রফিট। এই প্রফিটের ওপর নির্ভর করেই হিন্দুস্থান পার্কে বাড়ি করেছেন শিবপ্রসাদ গুপ্ত

অফিসে ঢুকেই দেখলেন একজন অচেনা ভদ্রলোক বসে আছেন। অবাডালী

শিবপ্রসাদবাবু ষেতেই তিনি উঠে দাড়ালেন নমস্কার করলেন। বললেন - নমন্তে_

- কে আপনি? আমি তো ঠিক চিনতে পারছি না?

--আমাকে আপনি চিনতে পারবেন না আমি একটা অন্য কাজে এসেছি, জমি বেচা-কেনার কাজ নয় ঠিক-_

শিবপ্রসাদবাবু বললেন-_কিস্ত আমার তে! জমি কেনা-বেচাই কাজ-_

_-তা জানি, কিন্তু সে-কাজের জন্যে আমি আসি নি। আমি আসছি জয্পুর থেকে-_ |

১৮ একক দশক শতক

--জয়পুর ?

যা, হুন্দরিয়া বাঈয়ের কাছ থেকে একটা খত, এনেছি-_

বলে একটা চিঠি বার করে শিবপ্রসাদবাবুর হাতে দিলে

শিবপ্রসাদবাবু চিঠিটা হাতে নিয়ে বছ্ধিনাথকে ভাকলেন। বগ্িনাথ বাইরে ছিল। আসতেই বললেন-_গ্যাখ, এখন আধ ঘণ্টা কারে! সঙ্গে দেখ! করতে, পারবো না, যর্দ কেউ আসে তো! বসিয়ে রাখবি, ভেতরে আসতে দিবি না-_

তারপর বগ্িনাথকে আবার ডেকে বললেন-_-আর অপারেটারকে বলবি এখন যেন আমাকে রিং না করে, আমি ব্যস্ত আছি-_

একই কলকাতার বিভিন্ন পাড়ার আবার বিভিন্ন রূপ। হিন্দুস্থান পার্কের আকাশে যখন নীলের সমারোহ, তখন বৌবাজারের মধু গুপ্ত লেনে কয়লার ধৌঁক্সার ঠাষ্টা। অথচ এই পাড়াতেই আগে শিবগ্রসাদবাবুর কেটেছে। এই পাড়ারই সরু অন্ধকার গলির মধ্যে মন্দাকিনী ছেলে মান্গষ করেছে। এই পাড়াতেই সদাব্রত বড় হয়েছে বাড়ির জানাল! দ্িষে এই পাড়ার পিচের রাস্তার ওপরেই ছেলেদের ক্রিকেট খেল! দেখেছে সদাব্রত। তারপর একটু একটু করে বড় হবার পর পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে মেশবার অনুমতি পেয়েছে। তাও দূর থেকে। বেশি মিশতে গেলেই মায়ের শাসন সহা করতে হয়েছে। একটু বেশি দেরি করে আড্ডা দিলেই মা বকেছে। ছেলেকে চোখে-চোথে রাখতো! মা। এই বুঝি খারাপ হয়ে যায় ছেলে।

মা বলতো-_পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে অত আড্ড৷ দেওয়া ভাল নয়-_

সদাত্রত বলতো- কিন্তু ওরা তো৷.খারাপ ছেলে নয় মা

--সে-লসব তোমার তো দেখবার দরকার নেই, আমি বলছি ওর] খারাপ, ওদের সঙ্গে বেশি মেলামেশা করা উচিত নয়-_

আর শিবপ্রসা্দবাবুর তখন উঠতির সময়। কোথা দিয়ে তার সময় কাটতো, কোথায় কখন থাকতেন, কী করতেন কিছুই ঠিক ছিল না। সারাটা দিন প্রতিষ্ঠা লাভের প্রাণপণ চেষ্টায় ভূতের মতন পরিশ্রম করতেন। ভোর- বেলায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন, আর ফিরতেন যখন তখন মধু গুপ্ত লেন নিঝুষ হয়ে এসেছে। এসেই ক্লান্তিতে শুয়ে পড়তেন। মন্দাও তখন

একক দশক শতক ১৯.

নিশ্চিন্ত হয়ে স্বম্তির নিঃশ্বাস ফেলতো। তখন খোকা আসে নি। প্রথম যৌবনের অক্লান্ত পরিশ্রমের দিন সে-সব। সে-সব দিনের কথা সদাব্রত জানে না। শুধু এইটুকু জানে বাবা তার নিজের চেষ্টায় নিজের পায়ে দাড়িয়েছেন। আর শুধু জানে তার মা পাখির মত দিনের পর দিন তাকে আগলে নিয়ে মানুষ করেছে আরো জানে তার জন্যে মা'র ভাবনার অস্ত নেই। আরো! জানে পৃথিবীর পাড়ায়-পাড়ায় যত ছেলে আছে মা'র চোখে তারা সবাই খারাপ

সদাব্রত মনে মনেই একটু হাসলো

তার পর নম্বর খুঁজে একটা বাঁড়ির লামনে গিয়ে কড়া নাড়তে লাগলো!

আশ্চর্য, ছোটবেলায় এই শত্তৃদদের বাড়িতে মা আসতেই দিত না শল্ুর। গরীব। শত্ভুর বাবা কোন্‌ একটা অফিসে কেরানীগিরি করতো। হাতে টিফিনের কৌটে! নিয়ে সকাল সাড়ে আটটার সময় দৌড়তে দৌড়তে বাস- রাস্তার দিকে ষেত। তখন থেকে মা"র যেন কেমন ঘেন্না ছিল এদের ওপর অথচ এখন অদীত্রত বড় হয়েছে। এখন নিঃসংকোচেই এদের বাড়ি এসেছে এসে শল্গুর সঙ্গে গল্প করতে পারে, আড্ডা দিতে পারে। কেউ জানতে পারবে: না। এ-পাড়ার লোক নয় তারা তাই কেউ আপত্তিও করবে না

--কে?

ভেতর থেকে মেয়েলি গলায় কথাটা বলে একজন দরজা! খুলে দিলে ছোট মেয়ে। ফ্রক পরা

_ শড়ু আছে?

দাদা তো! ক্লাবে গেছে। বাড়িতে নেই-_

ক্লাব! কোন্‌ ক্লাব? শড়ুদের আবার ক্লাব হয়েছে নাকি !

মেয়েটি বললে--ওই যে সামনে গলির মোড়, ওই মোড়ের মাথায় দেখবেন একটা মুড়কি-বাতাসার দোকান আছে, তারই পেছনে দাদাদের ক্লাব_গেলেই দেখতে পাবেন"

প্রথমে সদাব্রত ভেবেছিল দরকার নেই গিয়ে। বাড়িতে দেখা হয়ে গেলে না-হয় খানিকক্ষণ গল্প করা! যেত অনেক দিন পরে আর তা ছাড়। এমন তো কিছু কাজও নেই। কলেজ গ্রীটে বই কিনতে এসেছিল। বই কেনার পর হঠাৎ মনে পড়ে গিয়েছিল পুরোনে। পাড়াটার কথা। তার পর হাটতে াটতে এখানে চলে এসেছে

১১/ ৭৬৬১)

একক দশক শতক

ফিয়ে আমতে গিয়েও আবার এগিয়ে চললে! হাতের ঘড়িতে সময়টা দেখলে একবার অনেক সময় আছে। সেই চেনা গলি। কিন এতদিনেও কিছু বদলায় নি। লম্বা লগ্ব! দৌতলা-তিনতলা-চারতল৷ বাড়ি সব। একেবারে ঠাসবুছনি। গায়ে-গায়ে লাগানো বাড়িগুলো। সেই ভাইংক্লিনিংটা এখনও রয়েছে। আগে বাড়িতে গ্যারেজ ছিল না, বাবাকে গাড়ি রেখে আমতে হতো! বড় রাস্তার মোড়ের একটা! বাড়ির গ্যারাজে। অফিস থেকে লোকেরা ফিরছে। সরু গলি হলে কী হবে, খুব ভিড়। এইটুকু গলির মধ্যেই একটা গ্লাড়ি গেলে লোকের বাড়ির দরজায় চৌকাঠে উঠে দাড়াতে হয়।

গলির মোড়ে এসে দাড়াল সদীত্রত।

একটা খোলার চালের ঘর। দেখলেই বোঝা যায় মুড়কি-বাতালার 'দোকান।

সদাত্রত দৌকানের পেছন দিকট! দেখবার চেষ্টা করলে। পেছন দিকেই শডুদের ক্লাব। একবার ভেবেছিল দৌকানদারকে জিজ্ঞেস করবে। কিন্ত দোকানদার তখন খদ্দের নিয়ে ব্যস্ত। দৌকানটার ঠিক পাশ দিয়েই একটা সরু সিমেপ্ট-বাধানে! গলি। সেখান থেকে ভেতরের ঘরের আলো জলা দেখা ঘাচ্ছে। ছু-একজন ভদ্রলোক ঢুকছে ভেতরে

নদাব্রত ভেতরে ঢুকবে কিনা ভাবছিল। হঠাৎ একজন ভদ্রলোক ভেতরে ঢোকবার উপক্রম করতেই সদাব্রত জিজ্ঞে করলে- দেখুন, এটা! কি একটা ক্লাব?

ভদ্রলোক মুখ ফেরাতেই মনে হলো যেন চেনা-চেনা। সদীব্রতর চেয়েও বয়েসে বড়।

ভন্দুলৌক বললে--হ্যা-_

সদাত্রত জিজ্ঞেস করলে--ভেতরে শু আছে? শল্ু দত্ত?

তখনও ভেতর থেকে তুমুল আড্ডার আওয়াজ ,আসছে। খুব হাপি-তর্ক- ৰাদ-বিতগার গোলমাল।

ভদ্রলোক সদীত্রতর মুখের দিকে ভালো করে চেয়ে দেখলে বললে" আচ্ছ! দাড়ান, দেখছি_-

সদাব্রত সেখানে সেই বাইরের রাস্তাতেই দীড়িয়ে রইল

ভদ্রলোক ভেতরে গিয়েই ডাকলে--শস্তু, তোকে ডাকছে রে-_

বাইরে থেকে ম্পষ্ট শোন! গেল--কথাটার দঙ্গে সঙ্গে গোলমাল সব খেমে গেছে।

একক দশক শতক

--কে ডাকছে?

_-সেই আমাদের পাড়ার শিবপ্রসাদবাবুর পোস্বপুত্রটা-_

_ কে? তবু যেন বুঝতে পারলে ন! শর

_-আরে মনে নেই, আমাদের পাড়ায় আগে ছিল, সেই শিব্প্রপাদবাবুঃ এখন বালিগণ্জে বাড়ি করে উঠে গেছে__

কে যেন জিজ্ঞেস করলে-_কার পোস্বাপুত্তুর ? পোস্পুত্ত,র বলছে! কেন?

_তা পোষ্পুত্রকে পোস্তপুত্তর বলবে! না তো জামাই বলবো? বুডো বয়েস প্বস্ত ছেলেপিলে হলো না বলে তো৷ ওকে পোষ্পুত্বর নিয়েছিল*"*

--সদাত্রত? আমাদের সদাত্রতর কথা বলছে? সে এসেছে? কোথায়?

_ ওই তো] বাইরে দাড়িয়ে আছে তোকে ভাকছে।

শল্তু পড়ি-মরি করে গলি দিয়ে বাইরে এসেই একেবারে জড়িয়ে ধরেছে

_আরে তুই? সদাব্রত? কী ব্যাপার? তুই হঠাৎ? এ-পাড়াতে ? তোর গাড়ি কই? হেঁটে এসেছিস?

সেই অল্প-অন্ধকার গলির মধ্যে দাড়িয়ে সদাব্রতর মনে হলো সে হিমপাথর হয়ে গেছে তার যেন আর ঠচতন্যই নেই। সে যেন মৃত। সে যেন কসিল। মধু গ্রপ্ত লেনের কলকাতার সঙ্গে নে যেন মাটির তলায় চাপা পড়ে গিয়ে ফসিলে পরিণত হয়েছে যুগ-যুগ আলে!-বাতাসহীন অন্ধকারের মধ্যে থেকে থেকে তার যেন অস্তিম সমাধি হয়েছে মে নেই। সে শেষহয়ে গেছে। একেবারে নিঃশেষ হয়ে গেছে তার অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে গেছে সংসার থেকে।

-কী রে? চিনতে পারছিস না? আমিই তো শড়। হেঁটে এসেছিস কেন? তোর গাড়ি কোথায় গেল?

সদাব্রত কোনও উত্তরই দিতে পারছে না। সে তা হলে ও-বাড়ির কেউ নয়? তার মা বাবা, যাদের সে নিজের ভেবেছিল তারা কেউই তার আপনার নয়? এতদিন তা হলে সে ভেজাল হয়ে জীবন কাটিয়েছে! এতদিনে অতীতের সব ঘটনাগুলো! একে-একে মনে পড়তে লাগলো এতর্দিন বুঝতে পারে নি। এতদিন বুঝতে দেওয়! হয় নি তাকে সত্যি কথাটা বললে কী এমন লোকসান হতো৷ তার! কী এমন লাভই বা হতো তার! কিন্তু কেউ বলে নি কেন: তাকে!

--কী রে, শরীর খারাপ নাকি তোর ? মাথা ধরেছে?

৯১৬ একক দশক শব্ধ

সদরতর যেন এতক্ষণে মুখ দিয়ে কথা বেরোলো।

বললে--আমি আজকে আসি ভাই, অন্য (একদিন বরং আসবো, আজকে মোটে তাল লাগছে না-_

-্তদূর এসে ফিপ্সে যাবি? আয় না, আমাদের ক্লাবের তেতরে এনে বোম না, এক কাপ চা খেয়ে চলে যাবি, আর না

সদাব্রত বললে আজ থাক ভাই, অন্ত একদিন বরং আসবো"

-_-তা হলে কবে আসবি বল্‌?

--এ্রখন থেকে বলতে পারছি না, সময় পেলেই একদিন আসবো-_

বলতে বলতে আর সেখানে দাড়ালো না। দাড়াতে পারলে না সদাব্রত। তাকে বলে নি কেন কেউ? বললে কী লোকসান হতো? তাকে বিশ্বাম করে নি কেন কেউ? সে কিবিশ্বাসের যোগ্য নয় তা হলে? মধু গুপ্ত লেনের সরু রাষ্তা দিয়ে হন্হন্‌ করে চলতে লাগলো সদাত্রত। এখানে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করলে ঘেন কেউ তাকে চিনে ফেলবে হাপাতে হাঁপাতে স্দাত্রত সোজ] বাস-রাস্তায় গিয়ে পড়লে একেবারে

বহি

'বঙ্কুবাবু বললেন--কী মশাই! অনেকদিন আপনার দেখাই নেই, কারবার নিয়ে বুঝি খুব মেতে গেছেন ?

শিবপ্রসাদবাবু বললেন__কারবারের কথা রাখুন, কারবার-টারবার সব এবার গুটিয়ে নেবো ভাবছি--

কেন?

--আর কি সে-যুগ আছে! এখন তো গভর্মেন্ই জমির ব্যবসা! খুলছে। আমি তো! সেদিন ডাক্তার রায়কে মেই কথাই বললুম। বললুম--লব গ্যাশগ্ালাইজ করে নিলেই হয়। বাস-ট্রাম-ইলেকট্রসিটি সবই তো নিচ্ছেন, এর পর যদি জমিজমার ব্যবমাও করেন তো৷ আমরা যাই কোথায়? আমরা ক্ষী খেয়ে বেচে থাকি ?

__তা ডাক্তার রায় কী বললেন?

স্-শুনে হানতে লাগলেন ডাক্তার বাক্স আমার পুরোনো বন্ধু তো!

অনাথবাবু অবাক হয়ে গেলেন-_ডাক্তার রায় আপনার পুরোনে! বন্ধু নাকি?

একক দশক শত্তক ২৩

* -_বাছ তা জানেন না! আজ না-হয় চীফ, মিনিস্টার হয়েছেন, আমরা তো! একসঙ্গে এক লভায় লেকৃচার দিয়েছি যেবার সেই রায় হলে! কলকাতায়, তখন তো শ্তামাপ্রসাদবাবু আর আমি ছ'জনে ঘুরে ঘুরে সব কাজ করেছি তখন মধু গুপ্ত লেনের বাড়িতে থাকতুম, আমার বাড়িতে দু" বেল! মীটিং হয়েছে-- কংগ্রেলের কর্তারা! সব তখন কী করবে বুঝতেই পারছে না

তা শুধু কথার কথা নয়। যারা জানবার তারা জানে সে-দব কথা।

এক-একদিন কথার মধ্যেই হঠাৎ টেলিফোন আসে, শিবপ্রসাদবাবু টেলিফোনট। ধরেন ধরে অনেকক্ষণ কথ! বলেন শেষে বিরক্ত হয়ে টেলিফোনট! রেখে দেন। বলেন- জালিয়ে খাবে দেখছি আমাকে-_

সবাই জিজ্ঞেস করে-__কেন, কী হলো! আবার ? কে টেলিফোন করছিল?

--আবার কে? আপনাদের মেয়র---

* মেয়রের নাম শুনেই সবাই একটু অবাক হয়ে যায়। সমস্ত কলকাতাই 'ষেন শিবপ্রসাদবাবুর মতামতের জন্তে অস্থির উদ্গ্রীব হয়ে আছে। শিবপ্রসাদ- বাবুর যত না পেলে ফেন মিনিত্রি ভেঙে যাবে, কলকাতা! শহর লগভগ হয়ে যাবে। এক-একটা টেলিফোন এমন অসময়ে আসে যে সকলকে বিপদে ফেলে দেয়।

মন্দ। জিজ্ঞেস করে-_-আবার কোথায় বেরোচ্ছ?

শিবপ্রসাদবাবু বলেন-_ যাই, হঠাৎ ডাকছেন যাই, না গেলে খারাপ দেখাবে, ভাববে আমি বুঝি কাউকে মানতেই চাইছি না_

তারপর বছ্যিনাথকে ডেকে বলেন__বগ্ধিনাথ, কুঞ্জকে গাড়ি বার করতে বল-_

বদিন আগে যখন প্রথম জীবনে মন্দা এ-বাড়ির বউ হয়ে এসেছিল তখন মুখ বুজে সংসারের সব কাজ করেছে। শিব্প্রসাদবাবুর তখন অফুরস্ত পরিশ্রমের জীবন। তিন দিন দেখাই নেই মাশ্থটার। খবরও দিতে পারেন নি বাড়িতে। সকালবেলা! খেয়েদেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন, সন্ধ্যেবেলাই ফিরে আসার কথা সেদিন গেল, তার পরের দিনটা গেল। তার পরের দিনটাও গেল। তবু একটা খবর নেই, তখন এত চাকর-বিও ছিল না বাঁড়িতে। কোথায় কোনও আযাক্সিডেন্ট হলো না কি? কেউ একটা খরর নেবার পর্বস্ত লোক নেই। কাকেই বা জিজেস করেন? কোথায় যে কর্তা যান তা কখনও বলতেন না মন্দাকে সেই লব বছরগুলো৷ বড় একলা-একল! কেটেছে মন্দার

খোকা, তখন ছিল না। মধু গুপ্ত লেনের বাড়ির জানালাটা ফাক করে মন্দা বাইরের রাস্তার দিকে হা করে চেয়ে থেকেছে তিন দিন। তবু দেখা নেই। হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গার সময় একলা বাড়ির মধ্যে থর-থর করে কেপেছে। মান্ষটার জন্যে প্রাণটা হাক-পাক করতো। কতদিন মন্দা বলেছে__নাই বা বেরোলে, এই সময়ে মারামারি কাটাকাটি হচ্ছে, তোমার না বেরোলে কী হয়?

তার পর সে-সব দিনও কেটে গেছে। সেই দাঙ্গা, সেই ছৃর্ভিক্ষ, সেই দিন-নেই রাত-নেই এক ফোটা ফ্যানের জন্যে দরজার সামনে ধরনা দেওয়া তখন মন্দার মনে হতো যেন দিন আর কাটবে না, রাত আর পোয়াবে না। কিন্তু ছুঃখের হোক আর স্থখেরই হোক, দিন কেটে যায়ই। শিবপ্রসাদবাবুরও সে-সব দিন কেটেছে সেই তখন কোথায়-কোথায় মীটিং করেছেন, সারা দিন সারা রাত পরিশ্রম করে হয়ত ভোরবেলা বাড়ি ফিরে এসেছেন। তার পর এতটুকু বিশ্রাম নেই, আবার কারা ডাকতে এসেছে, তখনি দুটো নাকে-মুখে গুজে দিয়ে আবার বেরিয়ে গেছেন।

মন্দা বলতো-_তুমি ও-সবের মধ্যে না-ই বা থাকলে?

শিবপ্রসাদবাবু বলতেন-__তা আমি না থাকলে চলবে কী করে? সবাই যদি বাড়িতে দরজায় খিল দিয়ে বসে থাকি তো! দেশের এতগুলো! লোকের গতি কী হবে?

মন্দা বলতো--তা৷ মে দেখবার জন্যে তো দেশের লাটসায়েব আছে, পুলিস আছে, তারাই দেখবে__

শিবপ্রসাদবাবু রেগে যেতেন। বলতেন-_যা জানো! না, তা নিয়ে কথা বলতে এসো না, মেয়েমান্থষের বুদ্ধি নিয়ে চললে আর দেশের কাজ করা, ঘায় না

এমনি করেই কেটেছে সে-সব দিন। তার পর নাকি সব গোলমাল মিটে গেল। তখন থেকে শিবপ্রসাদবাবু একটু বিশ্রাম পেলেন। কিন্তু তখনও বৈঠকখানায় বমে আড্ডা .হয়। কাপের পর কাপ চা পাঠাতে হয়, পান পাঠাতে হুয়। অনেক দিন কান পেতে শুনেছেন সে-সব কথা। কিছুই বুঝতে পাকেন নি। ঘলাদলি, দল তাঙানে!। তুমুল তর্কের ঝড় বয়ে গেছে। তারই সাঁকো একবার ভেতরে এসে পুজো করে গেছেন। তারপর আবার সেই এক

এ্রকক দশক শতক ঙ৫

আলোচনা রামবাবু মিনিস্টার হবে ন! শ্যামবাবু মিনিস্টার হবে। কে মেয়র হবে, কে ডেপুটি মেয়র হবে তারই ফয়সাল! করবার জন্যে গুদের ঘুষ ছিল না।

. তখন কোথায়-কোথায় না ঘুরেছেন। এই জলপাইগুড়িতে গেছেন, আবার তার পরদিনই বারাঁসতে মীর্টিং। সেখান থেকে ফিরে এসেই আবার আসানসোল। এক-একবার ভয়ও হতো মন্দার এই ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে গিয়ে কবে হয়ত নিজের ব্যবসাটাঁও নষ্ট করবেন !

মন্দা জিজ্ঞেদ করতো-_তা৷ তুমি যে ক'দিন অফিসে যাচ্ছো না, তোমার অফিম কে দেখছে ?

শিবপ্রসাদবাবুর কিন্তু সেই একই উত্তর

--ব্যবসা আগে না দেশ আগে?

_ দেশ দেখবার তো অনেক লোক আছে! ভূমি না দ্বেখলে দেশ গোল্লায় যাবে?

শিব্প্রপাদবাবু বলতেন-_আমি দেখি কি লাধে? না দেখতে পারলে তো! বেঁচে যাই। কিন্ত এই দেশের জন্তেই বহু লোক প্রাণ দিয়েছে, তা জানো ? হাজার হাজার লোক জেল খেটেছে, টি-বি হয়ে মরেছে! ক্ষুদিরাম গোপীনাথ সাহা ফাঁপি গিয়েছে, যতীন দাস উপোন করে মরেছে, তা আমরা যর্দি আজ না দেখি তো তাদের প্রাণ দেওয়] যে মিথ্যে হয়ে যাবে! চোখের সামনে সাত ভূতে লুটে-পুটে খাবে, এটা ষে চোখ মেলে দেখতে পারি না, তাই তে এত কষ্ট করে মরি! নইলে আমার আর কী? আমি তো আমার নিজের ব্যবসা নিয়ে থাকলেই পারি, আরাম করে খেয়ে-দেয়ে নাক ভাকিয়ে ঘুমোলেই পারি-_

তা এসব কথ! মন্দা কান দিয়ে শুনেছে কিন্তু প্রতিবাদ করবার ক্ষমতাও ছিল না তার তখন। আর প্রতিবাদ করলে শোনবার মত মানুষও নন শিবগ্রসাদবাবু। শিবপ্রসাদবাবু নিজের খেয়াল-খুশি মতই চিরকাল চলেছেন, এখনও চলছেন। এখনও কোথায় যে মাঝে মাঝে চলে ষান, কী করেন বলেন না। বলবার মত সময়ই পান না।

বাইরের ঘর থেকে হঠাৎ ম্বামীকে ভেক্তরে আসতে দেখে মন্দ! অবাক হয়ে গেল।

মন্দা জিজ্ঞেস করলো--কী হলো?

একক দশক শতক

শিবপ্রদাদবাবু বললেন-_বন্ধিনাথ কোথায় গেল?

"সে তো তোমার পুজোর যোগাড় করছে__

শিবপ্রসাদবাবু ওপরে উঠতে লাগলেন সিড়ি দিয়ে। ৮০ গাড়ি বার করতে বলতে হবে

-"কেন, তুমি আবার এত রাজ কোথাও বেরোচ্ছ নাকি ?

_-ই], একবার বেরোতেই হবে-_

_কেন, আবার মীটিং নাকি?

মন্দা পেছন-পেছন চলতে লাগলো বস্ঠিনাথও খবর পেয়ে বাবুর কাছে এসেছে বললে- কুঞ গাড়ি বার করছে হুজুর-_

তাড়াতাড়ি জামাটা বদলে নিয়ে শিবপ্রসাদবাবু আবার নীচে নেমে গেলেন তার যেন কথ বলবারও সময় নেই

বস্ঠিনাথও যাচ্ছিল। মন্দা জিজ্ঞেস করলে__বাবু কোথায় যাচ্ছেন, তুই কিছু জানিস?

বগ্চিনাথ বললে__ আজ্ঞে না মা

--কোনও টেলিফোন এসেছিল ?

--তা তো জানি না, বাবু তে! বাইরের ঘরে বঙ্ধুবাবুদের সঙ্গে কথ! বলছিলেন দেখে এসেছি-*"

--তা হঠাৎ এমন বাইরেই বা যাওয়ার কি কাজ হলো?

তখন বাইরে গাড়ি স্টার্ট নেবার শব্দ হয়েছে। বগ্চিনাথ তাড়াতাড়ি বাইরে গিয়ে পৌঁছোবার আগেই গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে কুঞ্জকে এ-সব দিনে কিছু জিজ্জেন করতে হয় না। বাবু কোথায় যায়-না-যায় তার কাছ থেকে কোনও কথ! আদায় করা শক্ত বড় চাপা মাছষ। দিন-রাত বোবার মত কাজ করে যায়। যখন যেখানে যাক, ফিরে এসে তা নিয়ে কোনও আলোচনাই করে না। গ্যারেজের মাথার ঘরখানাতে বিছানাটা খুলে শুয়ে পড়ে, আর ঠাকুর খেতে ডাকলে খেয়ে নিয়ে চলে ষায়। মানুষ নয় কুঞ্জ, যেন যন্ত্র। যন্ত্রের মত আজ এত বছর শিবপ্রসাদবাবুর কাছে কাজ করে চলেছে।

শিবগ্রসাদবাবু প্রথমে গেলেন শ্যামবাজারের একটা গলিতে বাধুকে নামিয়ে দিয়ে কু গাড়িট। ঝাড়তে-মৃছতে লাগলো তার পর গাড়ির ভেতরে এসে বসলো কত জায়গায় বাবুকে আসতে হয়। বাড়ির লামনে সার-সার 'আয়ো কতকগুলে! প্রাইভেট গাড়ি দাড়িয়ে আছে। কতক্ষণ দাড়াতে হবে

একক দশক শতক

এখানে তার ঠিক নেই। দেখতে দেখতে আরো কতকগুলো গাড়ি এমে জুটতে লাগলো আর খানিক পরেই শিবপ্রসার্দবাবু বেরিয়ে এলেন, এসে গাড়িতে বসলেন। বললেন- চলো-_

কু আাকৃসিলারেটারে পা দিয়ে এব্ডিন চালিয়ে দিলে। তার পর সব চুপ। কুপ্ত চুপ করেই গাড়ি চালায়। ড্রাইভারের অকারণ কথা৷ বলা শিবপ্রসাদবাবু পছন্দ করেন না।

কর্নওয়ালিস স্কোয়ারের কাছে আসতেই শিবপ্রসাদবাবু শিরদাড়া সোজা করলেন। বললেন- একট ট্যাক্সি ডেকে দে তো কু্ধ__

কুঞ্জ রাস্তার একপাশে গাড়িটা দাড় করিয়ে বাইরে গেল। ট্যাক্সি বললেই ট্যাক্সি পাওয়া যায় না। একটু দ্বেরি হয়। একটু অপেক্ষা করতে হয়। _. শিবপ্রসাদবাবুর বোধ হয় জরুরী কাজ ছিল। ট্যাক্সিটা নিয়ে আসতেই বাবু উঠে পড়লেন। তার পর কুগ্চর দ্বিকে ফিরে বললেন--তুই এখানে থাক্‌, আমি এখুনি আসবো-_

কুগ্ত কর্নওয়ালিস স্কবোয়ারের কোণে গাড়িটা রেখে চুপ করে বসে পইল। রাত তখন ন*টা।

বলতে গেলে এর হ্ত্রপাত হয়েছিল ১৯৪৭ সালের আগে থেকেই। কলকাতা শহরের মানুষ বুঝতে পেরেছিল আর একটা নতুন যুগ্গ আসছে। স্বাধীনত যার জন্যেই হোক আর মে-জন্যেই হোক আসতে বাধ্য। কিন্তু কাদের স্বাধীনতা ? গরীবদের না ব্ড়লোকদের? আসলে একটা জিনিম বুঝতে. পারা যায় নি। সেট বোঝা যায়ও না। যখন বান আমে তখন জলের তোড়ে সব ভেসে গেলেও শেষকালে কোথাও বালি জমে, কোথাও পলি পড়ে। কোথাও মক্ষভূমি হয়ে যায়, কোথাও আবার দোনার ফসল ফলে। কুঞ এ-সব ভাবে না। তার এ-সব ভাবনা মাথায় আসে না। মন্দাও ভাবে ন]। বগ্চিনাথেরও ও-সব বালাই নেই। অনাথবাবু, বঙ্কুবাবু, অবিনাশবাবুরাঁও এ-সৰ কথা ভাবে না। তারা সবাই পেন্সনের অঙ্ক নিয়ে ব্যস্ত। এমন কি মধু খগ্ত লেনের ক্লাবের ছেলেরাও ভাবে না, ভাবতো! শুধু একজন। কেন এমন হলো? 'এমন তো হবার কথা লয়।

২৮ একক দশক শতক

সদাত্রত তার কাছেই প্রথম শুনেছিল কথাগুলে!।

কম বয়েস তখন সদাব্রতর মধুগুপ্ত লেনের বাড়িতে সদ্ধ্যেবেলা৷ পড়াতে আসতেন তিনি রোজ সারাদিন ক্কুলের পর বিকেলবেলা কোথাও বেরোবার অনুমতি ছিল না। কোনও রকমে বিকেলটা কেটে গেলেই সমস্ত মনটা! আকুল হয়ে 'উঠতো সন্ধ্যেবেলার জন্তে। সন্ধ্যে হলেই মাস্টার যশাই আমতেন। মাস্টার মশাইয়ের কাছে থাকতে, মাস্টার মশাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে সমস্ত তুলে যেতে। সদীব্রত।

আজ এতদিন পরে হঠাৎ আবার সেই মান্টীর মশাইয়ের কথা মনে পড়লে!

মন্দা জিজ্ছেস করলে- ঠাকুর, খোঁকাবাবুকে এখনও খেতে ডাকলে না?

--খোকাবাবু তো নেই মা!

মন্দাও অবাক হয়ে গেল। এই তে! এখুনি ঘরে ছিল দেখে এসেছে। বললে--এই তো৷ একটু আগেও ঘরে ছিল, এখন আবার কোথায় গেল? গাড়ি নিয়ে গেছে?

মন্দা নিজেও একবার খোকার ঘরে গেল। দোতলার এক কোণে সদাব্রতর ঘর। সেখানে সে নিজের সংসার গুছিয়ে নিয়েছিল। কত রাজ্যের বই যোগাড় করেছে। বই কিনেছে বই সাজিয়ে রেখেছে আজকাল কখন যে সে ঘরে থাকে আর কখন যে বেরিয়ে যায় টেরই পায় না মন্দা। ছেলে বড় হলে যেন মায়ের পর হয়ে যায়। মন্দা কেমন অবাক হয়ে গেল ঘর খালি দেখে। আগে তবু দিনের মধ্যে এক-আধবার দেখা হতে! এখন কখন বাড়িতে আছে কখন নেই বোঝাই যায় না। সেদিন অনেক রাত্রে বাড়ি ফিরে আসতেই যথারীতি ম| গিয়ে জিজ্ঞেস করলে-্থ্যা রে, খাবি নে তুই?

সধাব্রত বললে না-

--কেন, খাবি না কেন, কী হলো? শরীর খারাপ?

সদাত্রত বিছানায় শুয়ে মুখ লুকিয়ে ছিল। মা'র কথাতেও মাথা তুললো না। বললে--না, শরীর খারাপ নয়, এমনি খাবো! না-_

--তা খাবি না কেন, বলবি তো? কোথাও নেমন্তন্ন ছিল?

-না। |

মন্দ! হঠাৎ ছেলের কপালে হাত ঠেকিয়ে দেখতে গেল জ্বর হয়েছে কিনা। লদাব্রত মা'র হাতটা! ঠেলে সরিয়ে দিলে।

'একক দশক শতক জী

-_তা বলবি তো কী হয়েছে, কেন খাবি না-_

-_না॥ তুমি যাও এখান থেকে, আমার কিছু হয় নি-_

মন্দা তবু কিছু বুঝতে পারে নি। বললে-_কী হয়েছে বল্‌ তা হলে?

সদাব্রত বললে-_সব কথ তুমি বুঝবে না, তোমাকে বলা বৃথ! !

-_কিন্ত কালকেও খেলি না, আজকেও খাচ্ছিস না, কী হলো তোর বল্‌ তো?

--তা তোমরাই কি আমাকে সব কথা বলো !

_-তোকে সব কথা বলি না? তুই বলছিস কী?

--তোমার পায়ে পড়ি তুমি যাও এখান থেকে ! আমাকে একটু একলা থাকতে দাও-_

মন্দা আর কিছু বলে নি তারপর। ছেলে বড় হয়ে গেছে, এখন তারও ন্বাধীন মতামত আছে। সদাব্রতও ঘেন সেই দিনের পর থেকে কেমন হয়ে গিয়েছিল। সমস্ত জীবনটা একেবারে শুরু থেকে খু'টিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছে সে।. কবে সে কী চেয়েছিল আর কী পেয়েছিল আর কী সেপায়নি। তারজন্তে কেউই তো কোনও দিন কিছু ভাবে নি। তার ভাল মন্দ নিয়ে তো সত্যিই কেউ কোনও দিন মাথা ঘামায় নি। বাবা! বাবাকে কতটুকুই বা দেখতে পায় সে বাড়িতে! বাবা ব্যবসা আর নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত সারাদিন, আর মা'র সংসার!

মাস্টার মশাইয়ের বাড়ির কাছে যেতেই দেখলে গলির ভেতর 'অনেকগুলো গাড়ি দাড়িয়ে আছে একটা তারই বাবার গাড়ি। গাড়ির ভেতর কুপ্ত বসে আছে চুপ করে। সদাব্রত আবার ঘুরে অন্ত পথ দিয়ে চুকলো৷ গলিটাতে। এদিকটা ফাকা মাস্টার মশাইয়ের বাড়ির সামনের দরজায় গিয়ে ঘা দিলে সদাব্রত।

_ মাস্টার মশাই !

_কে?

কেদারবাবু ভেতর থেকে ডাকলেন-দরজা খোলাই আছে, ভেতরে এসে! হে-_ |

তার পর সদাব্রতকে দেখেই উৎসাহিত হয়ে উঠলেন--ও, তুমি এসেছ? এই একটু আগেই তোমার কথ। ভাবছিলুম--

-আমার কথা ভাবছিলেন ?

একক দশক শতক

কেদারবাবু বললেন--এই ভাবছিলুম, তোমাদের বাড়িতে তো আগে রোজ' ঘেতৃম, তখন তোমার বাবার অবস্থা ভাল ছিল না ততো, কিন্তু দেখ এখন তো! তোমাদের অবস্থা খুব ভাল হয়েছে, __খুবই ভাল হয়েছে, হয় নি?

সদাত্রত হঠাৎ এই কথার উত্তর দিতে পারলে না। শুধু বললে- হ্যা হয়েছে স্যার-

_অথচ দেখ, তোমাদের মতন দু'চার জনের অবস্থা শুধু ভাল হয়েছে, কিন্ত দেশের অবস্থা তে! ভাল হয় নি, দেশের সাধারণ লোকের অবস্থা আগে যা ছিল তার চেয়েও খারাপ হয়েছে, সত্যি কি লা! বলো?

হঠাৎ কেদারবাবু কেন এ-সব কথা বলতে আরম্ভ করেছেন বুঝতে পারলে ন। সদাব্রত। ছোট একটা তক্তপোশের ওপর মছুর পাতা ময়লা! চিট্‌ একটা তাকিয়াঁ। সেই মাছুরের ওপরই উবু হয়ে বসে কী যেন লিখছিলেন। ঘরের চারদিকে নোংরা, বই-খাতা-পত্র পাহাড় করে ছড়ানে!।

--সত্যি কিনা বলো ?

সদাব্রত বললে-_সত্যি-_

- আমিও তো তাই ভাবছিলুম। মন্সথ তো! কথাট ভালে তুলেছে।

কোন্‌ মন্থ?

আমার ছাত্র! আমি তাকে হিহ্্রি পড়াই। জ্যান্সিয়্যাণ্ট, হিত্রি পড়াই, পড়াতে পড়াতে মন্ধ আজ চট্‌ করে এই একটা মডার্ন হিন্্রির কোশ্চেন্‌ জিজ্ঞেস করে বসলো আমিও ভেবে দেখলুম কথাটা তো মন্মথ মন্দ বলে নি! এ-কথাটা তে! আশ্রি আগে ভাবি নি মোটে! তখনি তোমাদের কথা মনে পড়লো তার পর ভাবতে লাগলুম খুব ভেবে ভেবে বার করলুম আযান্সারটা

কথা বলতে বলতে উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলেন কেদারবাবু। বললেন-__ বুঝলে সদীব্রত, আন্সারটা বার করে ফেললাম রুশোর বইতে দেখলুম স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে”-2150 1৪ 0০020 098 1006 8৮815410979 178 19 12 01১8178, আমি মন্মথকে বললুম দেশে ফ্রিডম এলেই যে মানুষ ফি হবে এমন কোনও কথা নেই-_- .

সদাত্রত কেদারবাবুর কথ! কিছুই বুঝতে পারছিল না

__তুমি বুঝতে পারছে! কিছু, না বুঝতে পারছে না?